April 19, 2026, 6:47 pm

মাদকের ভয়াল থাবা থেকে , এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে-ডিসি

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ ::মাদককে না বলুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ উপজেলার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে “মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫”। শনিবার (২৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী শহরের ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনাল ম্যাচে সদর উপজেলা ফুটবল দল ২–১ গোলে রূপগঞ্জ উপজেলা দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। পরে শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবা সমাজে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা মাদক সেবন করছে তারা কোনো পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের অংশ—আমরা কি সবাই অন্ধ হয়ে গেছি? একটি ছেলে জন্মের পর থেকেই মাদকাসক্ত হয় না, তার চলার পথে আমাদের দায়িত্ব কোথায়? আমাদের নাগরিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে, তবেই আমরা দক্ষ ও যোগ্য হতে পারব। খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে হবে, এতে মনোবল ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। আমরা যদি দৃঢ় মনোবল ও অধ্যবসায় ধরে রাখি, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্য অর্জন সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে শপথ পাঠ করেন, “আমি শপথ করিতেছি যে, জীবনের লক্ষ্য স্থির রাখতে এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে কখনো কৌতূহলবশত মাদক গ্রহণ করব না, মাদকের ধ্বংসস্তব মায়াজালে নিজেকে জড়াব না।”

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বাহাউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান, অধিদপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলাম, প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক দীবজয় খীসা প্রমুখ।

এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় জেলার পাঁচ উপজেলা, সদর, বন্দর, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা